নিজস্ব প্রতিনিধি , কেপটাউন - প্রাচীন পৃথিবীর ইতিহাসে লুকিয়ে আছে অসংখ্য রহস্য, তারই একটি হলো দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তিতুল্য উইটওয়াটারস্র্যান্ড (Witwatersrand) অঞ্চল। মানুষের হাতে খননকৃত মোট সোনার প্রায় ৪০ শতাংশই এসেছে এখান থেকে—এ তথ্যই বলে দেয় এ অঞ্চলের গুরুত্ব কতটা। সাম্প্রতিক গবেষণা আরও একবার প্রমাণ করেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৯০০ মিটার উঁচু পাহাড়ি এলাকায় হাজার হাজার টন সোনা জমেছিল কোটি কোটি বছর আগে প্রবাহিত প্রাচীন নদীগুলোর স্রোতধারায়। এই আবিষ্কার নতুন নয়, কিন্তু এর পেছনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও বিস্তৃত মডেল গবেষকদের আগ্রহ আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ অঞ্চলের সোনা কোনো আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফল নয়—বরং এসেছে আদিম নদীগুলোর বহন করা সূক্ষ্ম কণার মাধ্যমে। আর্কিয়ান যুগে, অর্থাৎ প্রায় ২.৭ বিলিয়ন বছর আগে, এই নদীগুলো পাহাড়-উপত্যকা বেয়ে বয়ে চলত এবং তাদের স্রোত সোনাকে নিয়ে আসত নিচু অঞ্চলের উপত্যকায়। কোটি কোটি বছরের সেডিমেন্টেশন, চাপ এবং টেকটনিক পরিবর্তনের ফলে এসব নদীবিছানা পরে পরিণত হয় শক্ত পাথরের কনগ্লোমারেটে। আজ সেই কনগ্লোমারেটই উঁচু পাহাড়ে খুঁজে পাওয়া যায় সোনার বিশাল ভান্ডার হিসেবে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন USGS ও দক্ষিণ আফ্রিকার Council for Geoscience-এর তথ্যমতে, ইতিমধ্যে উত্তোলিত সোনা এবং অবশিষ্ট মজুদ মিলিয়ে উইটওয়াটারস্র্যান্ডের মোট সম্ভাব্য রিজার্ভ ৩০,০০০ টন অতিক্রম করতে পারে—যা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ প্রাকৃতিক সঞ্চয়।
১৯শ শতাব্দীর শেষভাগে এখানে শুরু হয় সোনার খনি খননের জোয়ার। এই মাইনিং বুম বা গোল্ড রাশ দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনৈতিক রাজধানী জোহানেসবার্গের জন্ম দেয়। তিন কিলোমিটারেরও বেশি গভীর খনন প্রযুক্তি তখনকার সময়ে ছিল এক বিপ্লব। এই খনন শুধু অর্থনীতিকেই বদলে দেয়নি, বরং তৈরি করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড—যেগুলো পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী খনিশিল্পে অনুসৃত হয়েছে।
যদিও বৃহৎ অংশ বহু আগেই খনন হয়েছে, তবুও ভূতাত্ত্বিকদের মতে বেসিনের প্রান্তের অনেক অঞ্চল এখনও অনাবিষ্কৃত। আধুনিক সিসমিক জরিপ ও গভীর ড্রিলিং প্রযুক্তি বাকি থাকা সম্ভাব্য সঞ্চয়গুলো শনাক্ত করার পথে নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা বুঝতে চাইছেন কীভাবে পৃথিবীর এই বিশেষ ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এত বিপুল সোনা একত্রিত হলো—এ জ্ঞান ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্য অঞ্চলেও অনুসন্ধানকে প্রভাবিত করতে পারে।
প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে নতুন জোয়ার! ফিলিপাইন্সের পর এবার ভিয়েতনামের শক্তি বাড়াতে চ...
বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের ‘হাঙর’! ভারতের পূর্ব উপকূলে চিনা সাবমেরিনের নয়া চ্যালেঞ্...
মালয়েশিয়া থেকে ভারতে ফেরানো হল ২ খলিস্তানি জঙ্গিকে! পঞ্জাবে নাশকতার মামলায় বড় স...
দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক তেল আবিব! পাকিস্তানের ভূমিকাতেও প্র...
ছেলের স্বপ্নপূরণের সাক্ষী হতে এবার বিশ্বকাপে মা, ভিসা জট কাটাল আমেরিকা