68fb809a56740_WhatsApp Image 2025-10-24 at 7.02.38 PM
অক্টোবর ২৪, ২০২৫ বিকাল ০৭:১৫ IST

প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজো কবে হয়েছিল!

নিজস্ব প্রতিনিধি , কলকাতা - দুর্গাপুজোর ধুনুচি ধোঁয়া মুছে যাওয়ার পর, বাংলার আকাশে আবারও বাজে ঢাকের আওয়াজ—জগদ্ধাত্রী পুজো আসছে। শাক্ত ধর্মবিশ্বাসে ভরপুর এই পুজো আজ পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে জনপ্রিয়, বিশেষ করে চন্দননগর, কৃষ্ণনগর, সেরামপুর ও কোন্নগর অঞ্চলে। কিন্তু এই পুজোর সূচনা, বিস্তার ও বর্তমান রূপের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ইতিহাস ও সমাজ-সাংস্কৃতিক বিবর্তনের গল্প।

‘জগদ্ধাত্রী’ শব্দের অর্থই হচ্ছে—যিনি ‘জগতের ধাত্রী’ বা ‘রক্ষাকারিণী’। শাস্ত্রমতে, তিনি দেবী দুর্গারই এক রূপ, যিনি দানব ত্রিপুরাসুরের বিনাশ ঘটান। "কাঠো উপনিষদ"ও "দেবীভাগবত পুরাণ"-এ তাঁর উল্লেখ আছে। পুরাণ অনুযায়ী, একসময় দেবতারা অহংকারে বিভোর হয়ে বিষ্ণু ও শিবের মাহাত্ম্য ভুলে গিয়েছিলেন। তখন দেবী তাদের শিক্ষা দিতে জগদ্ধাত্রীর রূপে আবির্ভূত হন—জ্ঞান, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রতীক হয়ে। তাই বলা হয়, জগদ্ধাত্রী পুজো মানে আত্মসচেতনতার পুজো।

ইতিহাসবিদদের মতে, বাংলায় জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রবর্তন হয় ১৭শ বা ১৮শ শতাব্দীর প্রথমার্ধে। তবে নথিভুক্ত ও সবচেয়ে প্রাচীন পুজোর দাবি করে চন্দননগর। স্থানীয় জনশ্রুতি ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৭৫০ সালের দিকে ফরাসি শাসিত চন্দননগরের এক ধনী ব্যবসায়ী ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা করেন। তিনি ছিলেন গভীর শাক্তভক্ত ও সমাজসেবক। দুর্গাপুজোর পর দেবী আরাধনায় এক বিশেষ রূপ খুঁজতে গিয়ে তিনি জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু করেন—যেখানে দেবীকে দেখা যায় সিংহবাহিনী, হাতী-আসুর বধেরত, চার হাতে শঙ্খ, চক্র, ধনু ও তীর ধারণ করে।

ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীর বাড়ির এই পুজোই পরবর্তীকালে গণপুজোর রূপ নেয়। ফরাসি প্রভাবিত শহরে স্থানীয় মানুষ, হিন্দু-ফরাসি সংস্কৃতির সংমিশ্রণে এই উৎসব এক বিশেষ সৌন্দর্য পায়।

চন্দননগরেই আজও জগদ্ধাত্রী পুজো সর্বাধিক জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়। এখানে প্রায় ২০০-২৫০টি বড় ও ছোট পূজো হয়, যার মধ্যে অনেকগুলির বয়স ১০০ বছরের বেশি। এই শহরের জগদ্ধাত্রী পুজো শুধু ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও পরিণত হয়েছে। আলোকসজ্জা, থিম, মেলা, ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিমাশিল্প—সব মিলিয়ে এটি আজ জাতীয় স্তরে পরিচিত এক উৎসব।

ফরাসি আমলের শহর হওয়ায় চন্দননগরের রাস্তাঘাট, ফরাসি স্থাপত্য ও দেবীপুজোর সমন্বয়ে জগদ্ধাত্রী পুজো পেয়েছে এক অনন্য চরিত্র। বিশেষত, আলোকসজ্জা —চন্দননগরের শিল্পীরা এখানে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছেন। দুর্গাপুজোর থিম আলোকসজ্জার তুলনায় জগদ্ধাত্রীর আলোর কারুকাজে স্থানীয় শিল্পের ছাপ আরও স্পষ্ট।

চন্দননগরের পরেই জগদ্ধাত্রী পুজোর জনপ্রিয় কেন্দ্র হল কৃষ্ণনগর। ১৮ শতকে নবদ্বীপ-নদীয়া অঞ্চলের রাজবংশীয় ও জমিদাররা এই পুজো প্রচলন করেন। কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় নিজেও শাক্ত উপাসক ছিলেন, যদিও তাঁর দুর্গাপুজোই বেশি বিখ্যাত, তবু তার আমলেই জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রভাব গ্রামবাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী কালে সেরামপুর, কোন্নগর, রিষড়া, হুগলি, উত্তরপাড়া ও কল্যাণীর মতো শহরগুলোতেও এই পুজো জনপ্রিয় হয়।

১৯শ শতাব্দীতে নবজাগরণের যুগে বাঙালি সমাজে জগদ্ধাত্রী পুজো ক্রমশ ‘গণপুজো’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। যেমন দুর্গাপুজো জমিদার বাড়ি থেকে বেরিয়ে পাড়ার পুজোয় পরিণত হয়েছিল, তেমনই জগদ্ধাত্রী পুজোও এক ‘জনতার উৎসব’-এ রূপান্তরিত হয়।

জগদ্ধাত্রী পুজো সাধারণত কার্তিক মাসের শুক্ল নবমী তিথিতে শুরু হয় এবং দশমী বা একাদশী পর্যন্ত স্থায়ী হয়। প্রতিমা তৈরি হয় মৃন্ময়ী মাটিতে—দেবী চার হাতে অস্ত্র ধারণ করে, তার বাহন সিংহ, আর পায়ের নিচে হাতী অসুর। প্রতিমার শোভাযাত্রা, আরতির সঙ্গীত, ধুনুচি নাচ, মেলা ও আলোকসজ্জা মিলিয়ে উৎসবের রূপ হয় চোখ ধাঁধানো।

অন্যদিকে, চন্দননগরে বিসর্জনের শোভাযাত্রা নিজেই এক শিল্প। রাতে আলোকসজ্জিত প্রতিমাগুলি ট্রাকে করে শহরের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে প্রদর্শিত হয়— যা এক বিশাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়।

আজকের দিনে জগদ্ধাত্রী পুজো শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি এক সামাজিক ঐক্যের উৎসব। বিশেষ করে হুগলি জেলার অর্থনীতি ও পর্যটনে এর বিশাল ভূমিকা রয়েছে। প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক চন্দননগর ও আশেপাশের অঞ্চলে ভিড় জমায়। পৌরসভা, স্থানীয় প্রশাসন ও পুজো কমিটিগুলি মিলে শহরকে সাজিয়ে তোলে। থিম পুজো, পরিবেশবান্ধব প্রতিমা, এবং ডিজিটাল আলোকসজ্জার ব্যবহার আজকের পুজোকে যুগোপযোগী করে তুলেছে।

এছাড়াও , এই পুজো চন্দননগরের পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আলোকশিল্পীরা দুর্গাপুজো ও দীপাবলির আলো-সজ্জা বানাতে সারা ভারতে যান—তাঁদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের অন্যতম উৎস জগদ্ধাত্রী পুজোই।

জগদ্ধাত্রী পুজো তাই কেবল দেবী আরাধনার উৎসব নয়—এটি বাংলার সংস্কৃতি, শিল্প ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। দুর্গাপুজোর ঐশ্বর্য যেখানে বাঙালির আনন্দের প্রতীক, সেখানে জগদ্ধাত্রী পুজো আমাদের আত্মচেতনা, সংযম ও ঐক্যের প্রতীক। ফরাসি প্রভাবিত এক ছোট শহরে জন্ম নেওয়া এই পুজো আজ রাজ্যজোড়া গর্বের উৎসব — আলোর উৎসব, বিশ্বাসের উৎসব, আর বাঙালিয়ানার চিরন্তন পরিচয়।

আরও পড়ুন

ডুয়ার্সের বুকে ছোট্ট স্বর্গ ঝান্ডি , কম ভিড়ে উপভোগ করুন পাহাড়ের রূপ
আগস্ট ০২, ২০২৬

ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির কোলে শান্ত সময় কাটান

সুন্দরবনে বেড়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা , উচ্ছ্বসিত বন দফতর
আগস্ট ০২, ২০২৬

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সুন্দরবনের প্রায় ৪,১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাঘ গণনার কাজ করা হয়

বর্ষায় প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের হাতছানি , উত্তরবঙ্গের লুকিয়ে থাকা পাহাড়ি রত্ন জৌবাড়ি
আগস্ট ০১, ২০২৬

নিরিবিলি পরিবেশে প্রকৃতির মাঝে কাটান কয়েকটি দিন

মুসৌরির পাশেই লুকিয়ে ল্যান্ডোর , শান্ত পাহাড়ে হারিয়ে যাওয়ার অনন্য এক ঠিকানা
জুলাই ৩১, ২০২৬

নিরিবিলি পাহাড়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য

মাটির সমস্যায় স্বস্তির বার্তা , আমতার মৃৎশিল্পীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ বিধায়কের
জুলাই ৩১, ২০২৬

মাটি সংগ্রহে হয়রানি কমানোর আশা দেন বিধায়ক

গোয়ার বিখ্যাত সানবার্ন এবার মন্দারমণিতে , সমুদ্রের ধারে জমবে লং উইকএন্ড
জুলাই ৩০, ২০২৬

স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে মন্দারমণিতে বিনোদনের বিশেষ আয়োজন

শ্রাবণে দ্বিতীয় সপ্তাহেই বাহাড়ালে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা , নামছে ভক্তদের ঢল
জুলাই ২৮, ২০২৬

কলস যাত্রা, পূজা-অর্চনা ও অন্নকূটের আয়োজনকে ঘিরে ধর্মীয় উৎসবের আবহ

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এখনও পাননি ! দেরির আড়ালে থাকতে পারে এই সমস্যাগুলি
জুলাই ২৮, ২০২৬

আবেদন করার পরও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি

বরফের শৃঙ্গারে সেজে উঠল এক্তেশ্বর মন্দির , শ্রাবণে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর তীর্থক্ষেত্র
জুলাই ২৮, ২০২৬

প্রাচীন এক্তেশ্বর শিব মন্দিরে মহাদেব বরফ দিয়ে সাজানো

কুর্গে পাহাড়ের হাতছানি , সবুজ প্রকৃতির মাঝে খুঁজে নিন শান্তির ঠিকানা
জুলাই ২৭, ২০২৬

শান্ত পরিবেশের টানে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়

ডুয়ার্সের প্যারেনে সবুজের হাতছানি , নির্জন প্রকৃতির টানে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়
জুলাই ২৬, ২০২৬

ভিড় থেকে দূরে কয়েক দিন কাটানোর জন্য অনন্য জায়গা

মেঘের দেশে হারিয়ে যাওয়ার ঠিকানা বাগোরা , প্রকৃতির মাঝে মিলবে শান্তির ছোঁয়া
জুলাই ২৫, ২০২৬

নিরিবিলি পরিবেশে ভ্রমণপ্রেমীদের নতুন পছন্দ বাগোরা

উল্টো রথে রাজারহাটে ভক্তদের ঢল , নজর কাড়ল ঘোষ পরিবারের ঐতিহ্যবাহী রথ
জুলাই ২৫, ২০২৬

বাসিনা গ্রামে উল্টো রথ উপলক্ষ্যে উৎসবের মিলনমেলা

TV 19 Network NEWS FEED

সেতু-বিমানবন্দর-রেল স্টেশনে আঘাত! ইরানে মার্কিন হামলায় মৃত ৭

সেতু-বিমানবন্দর-রেল স্টেশনে আঘাত! ইরানে মার্কিন হা...

শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ফের সংঘর্ষের আবহ, পালটা আক্রমণেও সক্রিয় তেহরান

মায়ানমার উপকূলে ভয়াবহ নৌকাডুবি! মৃত অন্তত ৫০০ রোহিঙ্গা

মায়ানমার উপকূলে ভয়াবহ নৌকাডুবি! মৃত অন্তত ৫০০ রোহি...

বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেল শরণার্থী বোঝাই দু’টি নৌকা, মৃতদের মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও থাক...

পিওকেতে অশান্তি ক্রমশ বাড়ছে! সংঘর্ষে নিহত ১২, সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়া নিষেধাজ্ঞা

পিওকেতে অশান্তি ক্রমশ বাড়ছে! সংঘর্ষে নিহত ১২, সাং...

দমন-পীড়নের অভিযোগে উত্তাল পাক অধিকৃত কাশ্মীর, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহ...

রেস্টুরেন্টে বসতেই ভাঙল চেয়ার! অতিরিক্ত ওজনে ধপাস করে পড়লেন যুবক

রেস্টুরেন্টে বসতেই ভাঙল চেয়ার! অতিরিক্ত ওজনে ধপাস...

একটি রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাওয়ার সময় আচমকাই ভেঙে যায় একটি চেয়ার

হরমুজে বাড়ছে ঝুঁকি! ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে বড় সতর্কতা কেন্দ্রের

হরমুজে বাড়ছে ঝুঁকি! ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে বড় সত...

দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু, হরমুজ প্রণালী দিয়ে উদ্বেগ কেন্দ্রের