নিজস্ব প্রতিনিধি , ওয়াশিংটন - বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে প্রবল লড়াইয়ের মুখে পড়েও জিতল আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ানো নাটকীয় ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারাল লিওনেল মেসির দল। ম্যাচে দু’বার সমতায় ফিরেছিল আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্রটি। শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। তবুও হার মানার আগে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল ভোজিনহার দল।
মায়ামির মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল আর্জেন্টিনার। প্রত্যাশামতো প্রথম একাদশে লাউতারো মার্টিনেজ ও থিয়াগো আলমাডাকে রেখেছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ৪-২-২ ছকে খেলতে নামে আর্জেন্টিনা। আক্রমণের দায়িত্বে ছিলেন মেসি ও লাউতারো। অন্যদিকে কেপ ভার্দে রক্ষণ শক্ত করেই মাঠে নামে। বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে নিজেদের অর্ধে রেখে খেলে তারা। ফলে শুরু থেকেই জায়গা বের করতে সমস্যায় পড়ে আর্জেন্টিনা। উইং দিয়ে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করছিল মেসিদের দল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা খুব একটা সফল হয়নি। আলমাডা নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না। সহজ পাসেও ভুল করছিলেন।

অন্যদিকে লাউতারোর সঙ্গে মেসির সমন্বয়ও খুব বেশি দেখা যায়নি। ফলে বল বারবার কেপ ভার্দের বক্সের সামনে গেলেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি হচ্ছিল কম। আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখলেও প্রতিপক্ষকে খুব বেশি চাপে ফেলতে পারছিল না। কেপ ভার্দেও শুরু থেকে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে। তার বড় উদাহরণ ভোজিনহা। একবার নিজেদের বক্সের মধ্যেই লাউতারোকে ড্রিবল করে বেরিয়ে যান তিনি। গ্যালারিতেও ছিল তাঁর জনপ্রিয়তার ছাপ। অনেক সমর্থকের গায়ে ছিল তাঁর নামের জার্সি। স্ট্যান্ডে উঠছিল তাঁর নামের স্লোগানও। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের দেশকে নতুন পরিচিতি এনে দিয়েছেন এই গোলরক্ষক।
সামনে মেসি থাকলেও তাঁর মধ্যে কোনও ভয় দেখা যায়নি। তবে মেসিকে বেশিক্ষণ আটকানো যায়নি। ম্যাচের ৩০ মিনিটে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের মাপা ক্রস পৌঁছে যায় কেপ ভার্দের বক্সে। অসাধারণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণে আনেন মেসি। এরপর বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জালে বল জড়িয়ে দেন। ভোজিনহার কিছু করার ছিল না। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির সপ্তম গোল। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছে যায় ২০-তে। প্রথমার্ধে খুব বেশি গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি। তবুও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার হাতেই। কেপ ভার্দে ধৈর্য ধরে নিজেদের পরিকল্পনা মেনে খেলতে থাকে।

বিরতির পর ম্যাচের চেহারা বদলে যায়। এবার আরও সাহসী ফুটবল খেলতে শুরু করে কেপ ভার্দে। তারা বলের দখল রাখার চেষ্টা করে। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার বক্সে আক্রমণের সংখ্যাও বাড়ায়। দীর্ঘ সময় চাপ সহ্য করার পর অবশেষে ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার রক্ষণ। ৫৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে বল পান ডেরোয় ডুয়ার্তে। সামনে ছিলেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। তাঁর পায়ের ফাঁক দিয়ে জোরালো শট নেন ডুয়ার্তে। বল এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে সেই গোল কেপ ভার্দেকে নতুন বিশ্বাস এনে দেয়। স্কোরলাইন হয়ে যায় ১-১। গোলের পর আরও জমে ওঠে ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধে দেখা যায় ভোজিনহার সেরা রূপ।
মেসির একটি বিপজ্জনক ফ্রিকিক দুর্দান্ত সেভে আটকে দেন তিনি। পরে আসে বহু প্রতীক্ষিত মেসি-ভোজিনহা দ্বৈরথ। মুখোমুখি অবস্থায় শট নেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। কিন্তু ভোজিনহাই জয়ী হন। মেসির শট তাঁর গায়েই লাগে। সমতা ফেরানোর পরও থামেনি কেপ ভার্দে। তবে শেষ দিকে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় আর্জেন্টিনা। স্কালোনি মাঠে নামান জুলিয়ান আলভারেজ ও নিকো গঞ্জালেজকে। একের পর এক আক্রমণ হতে থাকে কেপ ভার্দের বক্সে। কখনও রবার্তো লোপেজ গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স করেন। কখনও ভোজিনহা সেভ করে দলকে বাঁচান। একটি হ্যান্ডবলের আবেদনও নাকচ করে দেন রেফারি। ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোর থাকে ১-১।অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
কর্নার থেকে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শট নেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। বল জালে জড়িয়ে যায়। প্রথম গোলের অ্যাসিস্ট করার পর এবার নিজেই গোল করেন তিনি। স্কোরলাইন হয় ২-১। তবে এখানেই শেষ হয়নি নাটক। কেপ ভার্দে আবারও ম্যাচে ফিরে আসে। সিডনি লোপেজ কাব্রাল ডান দিক থেকে দুর্দান্ত কার্লিং শট নেন। বল এমন জায়গায় যায় যে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের কিছু করার ছিল না। অনেকের মতে, বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকদের পক্ষেও সেই শট আটকানো কঠিন হতো। গোল করার পর গ্যালারির দিকে ছুটে যান কাব্রাল। সেখানে নিজের প্রিয় মানুষকে খুঁজে নেন তিনি।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-২ সমতায়। ম্যাচ তখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল। কিন্তু ১১০ মিনিটে আসে সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া মুহূর্ত। মেসির কর্নার থেকে বলের দিকে উঠেছিলেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। সেই সময় বল ডিফেন্ডার ডিনের গায়ে লাগে। দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। আত্মঘাতী সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবুও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় কেপ ভার্দে। ম্যাচের শেষ দিকে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করতে হয়। সেই সেভগুলো না হলে ফল অন্যরকমও হতে পারত। আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগও বেশ নড়বড়ে দেখিয়েছে। নকআউট পর্বের বাকি ম্যাচগুলিতে এই দুর্বলতা তাদের সমস্যায় ফেলতে পারে।
এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে শেষ হয়ে গেল কেপ ভার্দের স্বপ্নযাত্রা। তবে হারলেও ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে তারা। ভোজিনহার নেতৃত্বে ছোট্ট দেশটি দেখিয়ে দিল, সাহস ও আত্মবিশ্বাস থাকলে বড় দলকেও চাপে ফেলা সম্ভব। ভবিষ্যতে আরও কোনও ছোট দেশের স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে কেপ ভার্দের এই বিশ্বকাপ অভিযান।
চোটের কারণে ছিটকে গেলেন পেসার, দলে সুযোগ জম্মু-কাশ্মীরের আকিব নবির
আদালতের রায়ে চরম হতাশা, বেকসুর খালাসের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার বড় সিদ্ধান্ত
সমাপ্তি অনুষ্ঠানে নীরজ-ঊষাদের হাতে ব্যাটন! দ্বিতীয়বার কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করবে ভারত
কমনওয়েলথে পদকহীন তারকা, প্রস্তুতির অভাব ও ফেডারেশনের গাফিলতিকে দায়ী করছেন ঘনিষ্ঠরা
৭ সোনার মধ্যে ৬টিই ভারতের দখলে, সিঙ্গলসে চ্যাম্পিয়ন অঙ্কুর-যশস্বিনী! উজ্জ্বল সিন্ড্রেলা-সুতীর্থাও
আপত্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় পদক্ষেপ, মুছে ফেলা হল রেস্তোরাঁর সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট
১৭ বছরের ব্যাডমিন্টন তারকার দুর্দান্ত জয়, ফাইনালে হারালেন ভিয়েতনামের থুই লিনকে
উত্তর-পূর্ব ও কাশ্মীরের অংশ বাদ দেওয়ার অভিযোগ, পাশে বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া
এশিয়া-প্যাসিফিক চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্য বঙ্গকন্যার, কানাডা যেতে প্রয়োজন প্রায় চার লক্ষ টাকা
রিংয়ে বক্সারদের বাজিমাত, প্যারা স্পোর্টসেও সাফল্য! একদিনেই বদলে গেল পদক জয়ের ছবি
একদিনেই তৃতীয় পদক, গ্লাসগোয় ইতিহাসের পথে ভারতীয় জুডো
রিংয়ে পরপর সাফল্য, অ্যাথলেটিক্সেও এল পদক! আরও বড় সংগ্রহের পথে ভারত
শোক, অভাব আর লড়াইকে হারিয়ে কমনওয়েলথে ইতিহাস ত্রিপুরার জুডোকা কন্যার
কমনওয়েলথে নতুন অধ্যায় ভারতীয় জুডোর, সোনার পাশাপাশি রুপোও এল যামিনির হাত ধরে
কমনওয়েলথ গেমসে জ্যাভলিনে ভারতের জোড়া পদক, তবে সোনা হাতছাড়া নীরজ চোপড়ার
শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ফের সংঘর্ষের আবহ, পালটা আক্রমণেও সক্রিয় তেহরান
বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেল শরণার্থী বোঝাই দু’টি নৌকা, মৃতদের মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও থাক...
দমন-পীড়নের অভিযোগে উত্তাল পাক অধিকৃত কাশ্মীর, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহ...
একটি রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাওয়ার সময় আচমকাই ভেঙে যায় একটি চেয়ার
দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু, হরমুজ প্রণালী দিয়ে উদ্বেগ কেন্দ্রের