নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা – তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে ফের জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে ঘিরে একাংশের দাবি, সংগঠন পুনর্গঠন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরণে পরিবর্তনের পর থেকেই দলে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে অভ্যন্তরীণ ঐক্যে।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দলীয় কাঠামোয় এক সময় ‘নবীন নেতৃত্ব বনাম প্রবীণ নেতৃত্ব’-এর বিভাজন স্পষ্ট হতে শুরু করে। অভিযোগ, দায়িত্ব বণ্টন ও সাংগঠনিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে দলের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, যদিও এ নিয়ে দলীয়ভাবে কখনও সরাসরি কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জনসংযোগ পর্বে জনরোষের মুখে পড়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে মূলত দলের অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতৃত্বকেই দেখা গিয়েছে বলে খবর। সেই তুলনায় নবীন শিবিরের উপস্থিতি কার্যত চোখে পড়েনি, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।
নিজস্ব সূত্রের দাবি, গত কয়েক বছরে দলে মতাদর্শ ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে যে মতভেদ তৈরি হয়েছিল, তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে। বিশেষ করে সংগঠনের ভিতরে দুই ধরনের ভাবধারার অস্তিত্ব,একদিকে ‘প্রথাগত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা’, অন্যদিকে ‘নতুন ধাঁচের কর্পোরেট স্টাইল ম্যানেজমেন্ট’,এই টানাপোড়েন নিয়েই আলোচনা চলছে।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ বা বিশ্লেষণ নিয়ে দলীয়ভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, দুঃসময়ে প্রবীণদের পাশে পাওয়া কি কেবল কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে রয়েছে দলের ভিতরের গভীর সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত?
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণ ও নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে ফের একবার তীব্র রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এই প্রসঙ্গে সামগ্রিকভাবে দলে “নবীনতন্ত্র বনাম বৃদ্ধতন্ত্র”-এর বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একসময় তৃণমূল কংগ্রেসে যে “নবীনতন্ত্র” বা নতুন প্রজন্মনির্ভর রাজনৈতিক মডেলের উত্থান দেখা গিয়েছিল, তা মূলত সংগঠনকে আধুনিকীকরণ করার একটি প্রচেষ্টা ছিল। সোশ্যাল মিডিয়া-নির্ভর প্রচার, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন, কর্পোরেট ধাঁচের সংগঠন পরিচালনা এবং তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতির মূল স্রোতে আনার লক্ষ্য নিয়েই এই নতুন কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
এই প্রক্রিয়ায় দলে একদল নবীন মুখের উত্থান ঘটে, যাঁদের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দ্রুত পরিচিতি পান। টলিউড ও সাংস্কৃতিক জগতের একাংশকেও রাজনৈতিক প্রচার ও জনসংযোগে যুক্ত করা হয় বলে রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ। এই নতুন ধারার রাজনীতিকে অনেকেই “নতুন তৃণমূল” বা “নবীনতন্ত্র” হিসেবে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন, যা তরুণ ভোটব্যাঙ্কের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হয়েছিল।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মডেল নিয়েই দলের ভিতরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রচারনির্ভর কাঠামো ও বাস্তব সংগঠনের মধ্যে ভারসাম্য কতটা বজায় রাখা গেছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অস্বস্তি ছিল। বুথস্তরের সংগঠন শক্তিশালী করা, স্থানীয় নেতৃত্বকে সক্রিয় রাখা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কি না,এই প্রশ্নও ক্রমশ সামনে আসে।
এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে আবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন দলের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতারা। রাজনৈতিক মহলের দাবি, সংকটের মুহূর্তে সংগঠনের ভারসাম্য রক্ষায় আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং মদন মিত্র।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংসদ ও আইনজীবী মুখ হিসেবে পরিচিত। সংসদীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে আদালতের লড়াই,দুই ক্ষেত্রেই তিনি দলের শক্তিশালী অবস্থান রক্ষা করেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত। সংগঠনের বিভিন্ন বিতর্ক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনে তাঁর সরব ভূমিকা বারবার সামনে এসেছে। দলের কৌশলগত অবস্থান রক্ষা ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলেও মনে করা হয়।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে তৃণমূল কংগ্রেসের একেবারে প্রথম সারির সংগঠক হিসেবে দেখা হয়। দলের প্রাথমিক গঠনের সময় থেকেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে এবং সংগঠন বিস্তারে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিধানসভা রাজনীতি ও সংগঠন পরিচালনায় তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁকে দলে স্থিতিশীল নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে। রাজনৈতিক মহলে তাঁকে প্রায়ই “সংকটকালীন ভরসার মুখ” হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

মদন মিত্র তৃণমূল রাজনীতির আরেক পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। ইউনিয়ন রাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি রাজ্য রাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। কামারহাটি কেন্দ্র থেকে দীর্ঘদিন বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্যেও তিনি দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন। মাঠের রাজনীতি, জনসংযোগ এবং কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তাঁর রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম দিক হিসেবে বিবেচিত। সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে তাঁর উপস্থিতি ফের লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।
এই তিন প্রবীণ নেতার সক্রিয়তা ঘিরে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে,তৃণমূল কংগ্রেস কি আবারও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের উপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে? নাকি এটি কেবল বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি সাময়িক প্রতিফলন?
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলের একটাই প্রশ্ন,এই নবীনতন্ত্র বনাম বৃদ্ধতন্ত্রের দ্বন্দ্ব কি শুধুই সাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতা, নাকি তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামোর বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত?

জানা গেছে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে যাচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
জইশ জঙ্গিদের নিশানায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উমেশ রাইও
হাইকোর্টকে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট
আপাতত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মামলায় স্বস্তি পেল না কালীঘাট তৃণমূল
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির দাবিও জানালেন লেখিকা, 'এক দেশ এক আইন'-এর পক্ষে সওয়াল
ধারালো অস্ত্রের হামলায় মৃত্যু আতাবুদ্দিনের, অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশের তল্লাশি
বিপুল সম্পত্তি ঘিরে তদন্ত তুঙ্গে, পার্কিংয়ের জমিতে সরকারি খাস জমির সন্দেহও
যোগ্য মহিলারা ধাপে ধাপে পাবেন সরকারি সুবিধা
আর্থিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছাতে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন নির্দেশিকা
অপমানিত হলেও তসলিমার ডাকে সাড়া দেব! ধিক্কার দেওয়া দর্শকদেরও দোষ দিলেন না কবি
রবীন্দ্রসদনে জয় গোস্বামীর অপমানে ব্যথিত তসলিমা! মুক্ত পরিবেশ নিয়ে সরব লেখিকা
দলের একাংশের বিরুদ্ধে ইঙ্গিত, তোলাবাজি নিয়ে বিজেপির অন্দরেই অস্বস্তি
মহারাষ্ট্র-উত্তরপ্রদেশের আদলে নতুন এটিএসের ভাবনা, STF-কে একত্র করে আরও কড়া নজরদারির পরিকল্পনা
প্রত্যাবর্তনের জন্য শুভেন্দুকে ধন্যবাদ জানান তসলিমা নাসরিন
সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের জন্য শুরু নতুন ব্যবস্থা
শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ফের সংঘর্ষের আবহ, পালটা আক্রমণেও সক্রিয় তেহরান
বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেল শরণার্থী বোঝাই দু’টি নৌকা, মৃতদের মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও থাক...
দমন-পীড়নের অভিযোগে উত্তাল পাক অধিকৃত কাশ্মীর, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহ...
একটি রেস্টুরেন্টে বসে খাবার খাওয়ার সময় আচমকাই ভেঙে যায় একটি চেয়ার
দুই ভারতীয় নৌকর্মীর মৃত্যু, হরমুজ প্রণালী দিয়ে উদ্বেগ কেন্দ্রের