কৌশিক দাস , কলকাতা - ছবিটার দিকে একবার ভালো করে তাকান। এক হকার দাঁড়িয়ে আছে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। হাতে তার দোকানের ঠাকুরের ছবি, মুখে অসহায়তা, চোখে চাপা আতঙ্ক। এই ঠাকুর শুধু ধর্মীয় প্রতীক নয় — এটা তার ছোট্ট দোকানের আশ্রয়, তার রুজিরুটি, তার বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। কিন্তু সেই দোকানটাই আজ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সরকার। কারণ চলছে “হকার উচ্ছেদ অভিযান”। আর এই উচ্ছেদের নাম দেওয়া হচ্ছে — “শহর সৌন্দর্যায়ন”, “উন্নয়ন”, “অবৈধ দখলমুক্তকরণ”।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে — উন্নয়ন কাদের জন্য?
যে মানুষটা সারাদিন স্টেশনের ধারে দাঁড়িয়ে সামান্য কিছু জিনিস বিক্রি করে সংসার চালাত, তার দোকান ভাঙা কি উন্নয়ন? যে হকার প্রতিদিন পুলিশের ভয়, প্রশাসনের ভয় আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকে, তার পেটে লাথি মেরে কাদের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে?
আজ দমদম স্টেশন হোক, শিয়ালদহ, হাওড়া, বান্ডেল বা উত্তরপাড়া — সর্বত্র একই ছবি। খেটে খাওয়া মানুষের ছোট ছোট দোকান ভেঙে ফেলা হচ্ছে। যাদের বড় বড় শপিং মল আছে, যাদের কোটি টাকার ব্যবসা আছে, তাদের উপর এই বুলডোজার নামে না। কারণ এই রাষ্ট্র গরিবের বিরুদ্ধে কঠোর, কিন্তু বড়লোকের সামনে নতজানু।
বিজেপি আজ হিন্দু আবেগকে সামনে রেখে রাজনীতি করছে। মন্দির, ধর্ম, গোমাতা, জয় শ্রীরাম — সবকিছুকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু বাস্তবে হিন্দু গরিবের জীবন কি বদলেছে? যে হকার নিজের দোকানে ঠাকুর বসিয়ে ধূপ জ্বালিয়ে ব্যবসা করত, আজ সেই মানুষটাই নিজের ঠাকুর হাতে করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে। তার দোকান ভাঙা পড়েছে এই সরকারের হাতেই।
তাহলে বিজেপি কাদের সরকার?
যদি সত্যিই হিন্দুদের সরকার হতো, তাহলে হিন্দু গরিবের দোকান ভাঙার আগে একবার ভাবত। যদি সত্যিই ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা থাকত, তাহলে একজন মানুষের রুজিরুটিকে এভাবে ধ্বংস করা হতো না। বাস্তবে বিজেপি হিন্দুদের নয়, কর্পোরেট আর বড়লোকদের সরকার। গরিব মানুষের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ভোট নেওয়া হয়, তারপর সেই গরিব মানুষকেই রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই উচ্ছেদ শুধু দোকান ভাঙছে না — ভাঙছে মানুষের আত্মসম্মান। একজন হকারের দোকান মানে শুধু কাঠ-টিনের ঘর নয়, তার সন্তানের পড়াশোনা, তার সংসারের রান্না, তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওষুধ। সেই জীবনটাই মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে “অভিযান”-এর নামে।
রাষ্ট্রের কাজ ছিল কর্মসংস্থান তৈরি করা। কিন্তু আজ রাষ্ট্র কাজ দিতে পারছে না, উল্টে যেটুকু মানুষ নিজের চেষ্টায় তৈরি করেছে, সেটুকুও কেড়ে নিচ্ছে। গরিব মানুষকে শহর থেকে সরিয়ে দিয়ে চকচকে শহরের স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে। অথচ সেই শহর দাঁড়িয়ে আছে এই শ্রমজীবী মানুষগুলোর ঘাম আর পরিশ্রমের উপরেই।
এই ছবিটা তাই শুধু এক হকারের নয় — এটা আজকের সময়ের প্রতীক। যেখানে ধর্মের নামে রাজনীতি হয়, কিন্তু ধর্মবিশ্বাসী গরিব মানুষের জীবন সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ। যেখানে উন্নয়নের বুলি শোনা যায়, কিন্তু উন্নয়নের বুলডোজার সবার আগে গরিবের উপরেই নামে।
নারা লোকেশকে শুভেন্দুর বিশেষ উপহার
ইডির জালে মনোরঞ্জন মণ্ডল
বার অ্যাসোসিয়েশনের দ্বারস্থ হলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর চাপ ও হুমকির অভিযোগ! বিতর্কে সৌরভ ঘনিষ্ঠ সিএবি সদস্য
ফুটবল উন্মাদনার মাঝেই অরূপকে ঘিরে বিজেপির তীব্র কটাক্ষ
ঋতব্রতের সমর্থন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে
আইনজীবীদের অধিকাংশ বিক্ষোভ দেখাতে থাকে আদালতের বাইরে
জিজ্ঞাসাবাদের পর শহরের বুকে ঘুরে বেড়ালেন অরূপ বিশ্বাস
২০ জুন গঙ্গাবক্ষে হতে চলেছে বিশেষ অনুষ্ঠান
যদিও ঠিক কোন বিষয়ে এই তদন্ত সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি
মমতার বাড়ির দরজা থেকেই ফিরলেন নতুন PSO
মমতা ব্যানার্জীর নিরাপত্তারক্ষী ফিরিয়ে দেওয়ার আর্জি জানান বিধায়করা
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা নাগাদ সিবিআই দফতরে হাজিরা দেন নির্মল ঘোষ
বিরোধী দলনেতা পদে বহাল থাকছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
আগামী ২২ জুন রাজ্য বাজেট পেশ
প্রায় ৭৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেগা হাইওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা
একের পর এক আইনি চাপে অভিষেক
৪ বছরেরও বেশি লড়াই, ইতিহাসের পাতায় উঠে এল ইউক্রেন যুদ্ধ
এখনই এক হচ্ছে না কংগ্রেস ও তৃণমূল স্পষ্ট বার্তা কংগ্রেস নেতৃত্বের
৮ হাজার উঁচুতে মানুষের দীর্ঘ লাইন! এভারেস্টের বেহাল দশা দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন শেরপ...